BONNABONDHU
ম্যাপপ্রস্তুতিআমাদের সম্পর্কেকিভাবে ব্যবহার করবেন

বন্যা প্রস্তুতি

বন্যার আগে, চলাকালীন এবং পরে আপনাকে ও আপনার কমিউনিটিকে নিরাপদ থাকতে সাহায্য করার জন্য ব্যবহারিক জ্ঞান। প্রস্তুতি জীবন বাঁচায়।

বন্যা-পূর্ব প্রস্তুতি

১

কমিউনিটি ঝুঁকি মানচিত্র তৈরি

বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, আশ্রয়কেন্দ্র, নদ-নদী, খাল, বেড়িবাঁধ, স্কুল, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করুন।

২

বন্যার পূর্বাভাস পর্যবেক্ষণ

বাংলাদেশে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (FFWC) বন্যার পূর্বাভাস এবং নদীর পানির সমতলের তথ্য প্রদান করে। স্থানীয়দের সরকারি সতর্কতা বজায় রাখা এবং নির্দেশিত পদক্ষেপগুলো মেনে চলা উচিত।

৩

জরুরি ব্যাগ প্রস্তুত রাখুন

ওয়াশ (WASH) বা পরিচ্ছন্নতা সামগ্রী, শুকনো খাবার, নিরাপদ খাবার পানি, ফ্ল্যাশলাইট, পাওয়ার ব্যাংক, প্রয়োজনীয় ওষুধ, প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ওয়াটারপ্রুফ ব্যাগে নিরাপদে রাখুন।

৪

পারিবারিক পরিকল্পনা গঠন

বন্যার সময় কী করতে হবে, কোথায় যেতে হবে, কীভাবে যেতে হবে এবং কার সাহায্য প্রয়োজন, তা পরিবারের সবার সাথে আলোচনা করুন। একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে কোথায় একত্রিত হবেন তা ঠিক করে রাখুন।

৫

যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি

খুদে বার্তা (SMS), মোবাইল ফোন, সরকারি ওয়েবসাইট, স্বেচ্ছাসেবক এবং স্থানীয় মাইকিংয়ের মাধ্যমে সতর্কতা ছড়িয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। একটিমাত্র যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর নির্ভর করবেন না।

বন্যা চলাকালীন করণীয়

১

নিরাপদে স্থানান্তর/আশ্রয় গ্রহণ

সরকারি সতর্কতা মেনে পরিস্থিতি বিপজ্জনক হওয়ার আগেই আশ্রয়কেন্দ্র বা উঁচু স্থানে সরে যান।

২

ওয়াশ (WASH) ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা

সম্ভব হলে নিরাপদ শৌচাগার ব্যবহার করুন, সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন এবং শৌচাগারের স্থান পানীয় জলের উৎস থেকে দূরে রাখুন।

৩

বিদ্যুৎ থেকে দূরে থাকুন

বন্যার পানিতে বা তার কাছাকাছি থাকা অবস্থায় পরিবাহী তার বা বৈদুতিক সরঞ্জাম স্পর্শ করবেন না।

৪

যোগাযোগ সক্রিয় রাখা

নিয়মিত সরকারি বার্তা, রেডিও এবং স্থানীয় ঘোষণা লক্ষ্য করুন। কেবল যাচাইকৃত তথ্য শেয়ার করুন।

৫

প্রাথমিক চিকিৎসা ও গুরুত্ব অনুযায়ী সেবা

একসঙ্গে অনেকে অসুস্থ বা আহত হলে যাদের দ্রুত সেবা প্রয়োজন। যেমন অতিরিক্ত রক্তপাত, শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা জীবনঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তি, তাদের আগে চিকিৎসা দিন। কম জরুরি রোগীরা পরে চিকিৎসা নিতে পারেন।

বন্যা পরবর্তী করণীয়

১

নিরাপদে ফিরে আসা ও নিরাপদ পানি ব্যবহার

কর্তৃপক্ষ এলাকাটিকে নিরাপদ ঘোষণা করলেই কেবল ঘরে ফিরুন। বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও ব্রিজের ক্ষতি পরীক্ষা করুন। বন্যার পানি বা ক্ষতিগ্রস্ত পানির উৎসকে নিরাপদ মনে করবেন না। সবসময় নিরাপদ পানীয় জল ব্যবহার করুন এবং পানি বিশুদ্ধকরণের নিয়ম মেনে চলুন।

২

ওয়াশ (WASH) ব্যবস্থার পুনর্গঠন

রোগব্যাধি ও পানি দূষণ রোধ করতে ক্ষতিগ্রস্ত শৌচাগার, টিউবওয়েল, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং পানির উৎসগুলো দ্রুত মেরামত করুন।

৩

প্রয়োজন অনুযায়ী সীমিত সম্পদ বণ্টন

খাদ্য, পানি, ওষুধ বা ত্রাণ সামগ্রী সীমিত হলে 'আগে আসলে আগে পাবেন' ভিত্তিতে না দিয়ে যাদের সবচেয়ে বেশি ও জরুরি প্রয়োজন তাদের অগ্রাধিকার দিন।

৪

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা প্রদান

প্রবীণ, শিশু ও সুবিধাবঞ্চিতদের চাহিদা ও ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ, পরিচ্ছন্নতা সামগ্রী এবং আশ্রয়ের ব্যবস্থা করুন।

৫

কার্যক্রমের মূল্যায়ন করা

জরুরি পরিস্থিতি শেষ হওয়ার পর পুরো অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা করুন, কী ভালোভাবে কাজ করেছে, কোথায় ভুল ছিল, কারা সহায়তা থেকে বাদ পড়েছে এবং পরবর্তী বন্যার আগে কী কী পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

জরুরি হেল্পলাইন নম্বর

জাতীয় জরুরি সেবা (National Help Line)

999

দুর্যোগের আগাম বার্তা

1090

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড জরুরি সেবা

16111

জাতীয় স্বাস্থ্য হেল্পলাইন

16263

Red Crescent Society

Hotline: 16226 (9 AM to 5PM)

Telephone (National Headquarters):
+88 02 48310188 or +88 02 48310189 (9 AM to 5PM)

Shaheed Ziaur Rahman Medical College Hospital

Help Desk: 01914-353566 or 02-588877077

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মৌলিক বিষয়

স্থানান্তরের পদক্ষেপ

স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হলে অপেক্ষা করবেন না। মেইন ইলেকট্রিসিটি এবং গ্যাস বন্ধ করে দিন। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উঁচু তাকে সরিয়ে রাখুন। রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ার আগেই দ্রুত সরে পড়ুন।

ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিবেশীদের সাহায্য করা

আপনার এলাকার বয়স্ক, গর্ভবতী নারী এবং শারীরিক প্রতিবন্ধীদের খোঁজ নিন। নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য তাদের সাধারণত শারীরিক সহায়তার এবং বেশি সময়ের প্রয়োজন হয়।

নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্য

বন্যার পানি দূষিত। এটা কখনো পান করবেন না। টিউবওয়েলের পানি ফুটিয়ে নিন অথবা পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ব্যবহার করুন। কলেরার মতো পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে বারবার হাত ধোবেন।

ইমার্জেন্সি কিট চেকলিস্ট

0% প্রস্তুত

এই জিনিসগুলো পানিনিরোধক ব্যাগে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত রাখুন।